কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬ এ ০২:২৫ PM
কন্টেন্ট: পাতা
পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), রংপুর দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, গবেষণা এবং টেকসই পল্লী উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি বিশেষায়িত স্বায়ত্তশাসিত প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীন পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানটি রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার জনগণের উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আরডিএ, বগুড়া কর্তৃক বাস্তবায়িত "পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, রংপুর স্থাপন (১ম সংশোধিত)" প্রকল্পের আওতায় সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে একাডেমির অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে "পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, রংপুর আইন, ২০২৩" এবং এর সংশোধিত আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ আইনগত ভিত্তি লাভ করে।
রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী, কাচনা ও জগদীশপুর মৌজায় প্রায় ৫০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই একাডেমিতে আধুনিক প্রশাসনিক ভবন, প্রশিক্ষণ ভবন, গেস্ট হাউস, ক্যাফেটেরিয়া, সাধারণ হোস্টেল, মেডিকেল সেন্টার, মসজিদ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন এবং কৃষি প্রদর্শনী খামারসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
একাডেমির প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পল্লী উন্নয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান, গবেষণা ও প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনা, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, পরামর্শ সেবা প্রদান, নীতি সহায়তা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার-কর্মশালার আয়োজন এবং উন্নয়নমূলক প্রকাশনা প্রকাশ।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও বাস্তবমুখী করতে একাডেমি ক্যাম্পাসে কৃষি যন্ত্রপাতি, ফসল, ডেইরি, পোল্ট্রি, মৎস্য, উদ্যান ও নার্সারি, টিস্যু কালচার এবং হাইড্রোপনিক ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি কুড়িগ্রাম জেলার চারটি উপজেলায় কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ (এপিএম) কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে।
একাডেমির জন্য মোট ১১০টি পদ অনুমোদিত হয়েছে। বর্তমানে মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) এবং দুইজন পরিচালক (উপসচিব) দায়িত্ব পালন করছেন এবং অবশিষ্ট জনবল নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে একাডেমিতে নিজস্ব ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় অফিস ব্যবস্থাপনা, হাউসকিপিং, ফ্রিল্যান্সিং, কৃষক দলনেতা উন্নয়ন, কৃষি যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ২,৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, মৎস্য উন্নয়ন, জাতীয় দিবস পালন এবং সামাজিক সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে জনাব খায়রুল আনাম (যুগ্মসচিব) মহাপরিচালক হিসেবে একাডেমির সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর পল্লী উন্নয়নের মাধ্যমে সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, রংপুর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।